নিজেকে ভালোবাসো

বাংলা ছোট গল্প

nijeke_valobaso

কিছু কিছু ছেলেমেয়ে খুব অল্প বয়সেই প্রেম করতে শুরু করে দেয় আবার কেউ কেউ তার জীবন সঙ্গী হিসেবে কাউকে বেছে নেয়, যারা কিনা ঠিক মতো প্রেম ভালোবাসা কী সেটাই জানে না। হুম নিশ্চয়ই প্রেম ভালোবাসা কোনো বয়স মেনে হয় না, এমন কী কাউকে বলে কয়েও আসে না।
 
কিন্তু অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরা ভালো লাগা আর ভালবাসাকে গুলিয়ে ফেলে। ওরা জানেনা কারো সুন্দর চেহারায় কখনো তার ব্যক্তিত্ব, আচার আচরণ, বিদ্যা বুদ্ধি প্রকাশ পায় না। আর শুধু চেহারার মায়াকে ভালোলাগা বলে, ভালোবাসা কখনোই না। ওরা ভাবে ছোটবেলায় যখন বাবা-মায়ের কাছে কোনো পছন্দের জিনিস কিনে দেওয়ার বায়না ধরলেই বাবা-মা সেটা কিনে দিত, তেমনি হয়তো কাউকে পছন্দ করলেই তাকে খুব সহজেই পাওয়া যাবে।
কিন্তু বাস্তবে এমন কোনোভাবেই সম্ভব হয় না।
ওরা আবেগের বশে সম্পর্কে তো চলে আসে আবার কেউ কেউ শারীরিক সম্পর্কেও মেতে উঠে কিন্তু ওরা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারে না। ভুল বোঝাবুঝি, চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেলাতে না পেরে, বিচ্ছেদের পর বলে ভালোবাসা বলে কিছু হয় না। সবই মায়া।
 
তারপরেই কেউ কেউ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে শেষ করতে চায়, আবার কেউ ধুমপান বা মাদক নেশায় মেতে ওঠে।
আচ্ছা তুমি কখনো নিজের দিকে দেখেছো?
অন্যের জন্য নয় নিজের জন্য কখনো সেজেছো?
অন্যের কিছু দেওয়ায় নয় নিজে জন্য কিছু করে সেই খুশির হাসি হেসেছো?
আচ্ছা তুমি কখনো নিজেকে ভালোবেসেছো?
 
অন্যকে ভালোবাসার বা জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার বয়স অনেক আছে। ভালোবাসা কোনো ডাটা প্যাক নয় যে নির্দিষ্ট সময় পর শেষ হয়ে যাবে। ভালোবাসা তো খোলা আকাশের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে আছে, যতটা অনুভূতি সংগ্রহ করতে পারবে ততটাই পাবে।
 
তার মধ্যে নিজেকে ভালোবাসার এক অন্য অনুভূতি রয়েছে, যেখানে নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দেওয়া বা নিজের জন্য কিছু করার মজাটাই আলাদা।
ভোরে মায়ের বকা শুনতে শুনতে ঘুম থেকে উঠো,
হাই তুলতে তুলতে টিউশনি পড়তে যাও, পড়তে পড়তে যখন ম্যাথ ফিজিক্স কেমিস্ট্রি মাথায় ঢুকবে না, তখন যে বই আবিষ্কার করেছে তার উপর রাগ করো, ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে মজা করো, সাইকেল কেনার জন্য বাপের কাছে ঘ্যানঘ্যান করো, ঠাকুমার কাছে পুরনো দিনের গল্প শোনো, রাগি স্যারের ভয়ে রাত্রি জগে হোমওয়ার্ক করো, প্রতিদিন বিছানায় না শুয়ে একদিন মায়ের কোলেই ঘুমিয়ে পড়ো, ...
কলেজে ভর্তি হও, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দাও, সারারাত জেগে থেকে ভোরে লম্বা ঘুম দাও, রুটিন ছাড়া জীবন কাটাও, সবাই যা করে তুমি তার উল্টা কাজ করো, লেট করে ক্লাসে যাও, রাস্তায় রাস্তায় একটু হেঁটে বেড়াও, মানুষের সাথে মিশো, মানুষের জীবনের গল্প শোনো, যখন যেখানে ইচ্ছা হারায়ে যাও প্রকৃতি দেখতে, যা ইচ্ছা হয় করো, কারন এই সময়টা নিজেকে চেনা বা নিজের ইচ্ছেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার বয়স ... তাই এই বয়সে নিজেকে ভালোবাসো।
 
তবে কখনো ভালোবাসার মানুষ খুঁজে বেড়িয়ো না, ভালোবাসার মানুষ যখন আসার এমনিই আসবে! কখন আসবে বুঝতেও পারবে না!
 
আগে নিজের প্রেমে পড়ো, নিজেকে চিনতে শেখো, নিজেকে টাইম দাও! নিজেকে প্রস্তুত করো, নিজের যোগ্যতা‌ অর্জন করো। কারন যখন ভালোবাসার মানুষটা আসবে তখন যাতে ওই মানুষটাকে অনেক ভালোবাসা দিতে পারো। যাতে তোমাকে নিম্ন ভেবে ছুঁড়ে না ফেলে দেয় বা যোগ্যতার অভাবে ভালোবাসার মানুষটাকে হারাতে না হয়।
 
কাউকে ভালো লাগার পরেই কতো সহজেই বলে দাও
" এটাই আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা " বা "ওকে না পেলে আমি বাঁচবো না " সত্যি কী তাই?
 
যে মানুষটা তোমার জন্য মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করে তোমাকে জন্ম দিল সে মানুষটা কী তোমার প্রথম ভালোবাসার জায়গা পাওয়া অধিকার রাখে না বা তার জন্য তোমার বাঁচতে ইচ্ছে করে না?
 
ভালোবাসা শুধু প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
 
কেউ বিপদে পড়লে তাকে একটু সাহায্য করে দাও, কারো মন খারাপ হলে তার সাথে একটু গল্প করে হাসিয়ে দাও, মা বাবার স্বপ্নটা একটু একটু পূরন করে নাও, দেখবে এগুলোর মধ্যেই অনেক স্নেহ ভালোবাসা অনুভূতি খুঁজে পাবে। যা আর অন্য কিছুতে পাবে না।
সবাই জানো নিশ্চয়ই যে গাছে তাড়াতাড়ি ফল ধরে সে গাছ কখনো সুদীর্ঘ ও শক্তিশালী হতে পারে না, তাই নিজেকে যোগ্য করে তোলো, নিজেকে ভালোবাসো আর অপেক্ষা করো.......!!💙
 
 
কলমে ~প্রিয় চট্টোপাধ্যায়
#bangla_choto_golpo
#choto_golpo
#bengali_story 

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post